Category Archives: রিসার্চ

এইদেশ না বিদেশ ?!

২০১৩/১৪ এর দিকে এদেশের মানুষের মাঝে Android নিয়ে যে হাইপ ছিল সেটা কি এখন অনেকটা ডাটা সায়েন্স এর দিকে চলে যাচ্ছে ? প্রযুক্তি মানুষের মনের মতই দ্রুত বদলায় কিনা ! যদিও আমাদের দেশে Data Science এর শাখা প্রশাখা AI,ML, DeepLearning এসব নিয়ে কাজ করার সুযোগ এখনো অনেকংশেই কম। বেশিরভাগ সফটওয়ার ফার্মগুলো ডেভেলপমেন্ট করেই খুশি। বাইরের দেশগুলার মত এদেশের ফার্ম গুলোতে আরএনডি(RnD) বা রিসার্চ এন ডেভেলপমেন্ট বলে বেশির ভাগ জায়গাতেই কিছু নাই। এদিক দিয়ে একাডেমিক সেকটর মনে হয় কিছুটা এগিয়ে আছে। রিসার্চ করা যায়। তাই কেউ ইন্ডাস্ট্রি তে আসতে চাইলে নিজেকে যেকোনো একটা ডেভেলপমেন্ট প্লাটফর্মে Entry Level Software Engineer হিসেবে প্রস্তুত করাই শ্রেয়।
 

আবার CSE ফিল্ডে উচ্চতর শিক্ষার(MSc বা PhD) বেশিরভাগ বিষয়ের নামধাম যাই থাকুক না কেন তা নিয়ে গভীরে ঘাটতে গেলে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাব্জেক্ট গুলো একবিন্দুর উপর দিয়ে চলে গেছে অনেকটা বহমান স্রোতের মতন যেমনঃ  Computational Biology/Advanced Digital Image Processing etc. এর বিষয় বস্তু আলাদা হলেও ঘাটাঘাটি করে যা বুঝলাম কাজ করতে হয় সুপারভাইজড/আনসুপারভাইজড লার্নিং এর ওপর বেইজ করে । কিন্তু এদেশের সমাজে HSC এর পর থেকে উচ্চতর পড়াশোনা চলে অনেকটা ব্র্যন্ডিং এর উপর। আর বাদবাকিটা থিওরি আর CGPA আর টাকা কোনটায় বেশি তার ওপর নির্ভর করে ! রিসার্চ মাইন্ড, প্র্যাক্টিকাল কাজ জানা, পছন্দের সাবজেক্ট এর থেকে ভার্সিটির ব্র্যান্ডিং টাই এদেশে গুরুত্ব পায় বেশি!

গবেষণার তেমন একটা মূল্য এদেশে নাই কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে সাব্জেক্টে বা ভার্সিটিতেই পড়ুক না কেন বিসিএস না দিলে এ সমাজ তোমাকে কেন মেনে নেবে ? তাই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা নেয়ার চেয়ে সম্মান(Hons) এর চার বছর শেষে তোমার হয়ত মনে হতে থাকবে OOP নিয়ে সারারাত পড়ে না থেকে বিসিএস এর মোটা বইগুলো পড়াই বোধহয় ভাল ছিল। কেননা জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ এদেশে বাইরের দেশ গুলোর মত STEM ফিল্ডে সেভাবে রিসার্চ গ্রান্ট এখনো তৈরি হয়নি। আর যাও কিছুটা গ্রান্ট পাওয়া যায় তা পেতেও অনেক ঝক্কি সেটা সবারই জানা!

সরকারী পর্যায়ে অন্যান্য ডিসিপ্লিনে কিছুটা রিসার্চ করার সুযোগ আছে কিন্তু CSE ফিল্ডের রিসার্চারদেরও সরকারী ভাবে তেমন কোনো সুযোগ আমি এখনো খুজে পাই নাই (ফেলোশিপ ছাড়া) । তবে অ্যাসিস্ট্যন্ট প্রোগ্রামার এর পদের পরীক্ষায় বাংলা ইংলিশ আর ইতিহাস খুজে পেয়েছি। এভাবেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি !

ইসরায়েল বা ইরান নিজেরা পরমাণু এবং অন্যান্য দিক দিয়ে উন্নত হয়েছে তাদের রিসার্চারদের দাম দেয়ার কারণে। তাদের অর্থনীতিতে সমরাস্ত্রের পর বাজেটের একটা বিরাট অংশ তারা রেখেছে রিসার্চের জন্য। তারা রিসার্চারদের গুরুত্ব বোঝার কারনেই তা করেছে ।

একারনেই হয়ত এদেশের টপমোস্ট বিশবিদ্যালয়গুলো থেকেও পাশ করার পর কস্ট করে হলেও অনেকেই বাহিরে চলে যায়। বাইরে ভাল করে। দেশের নাম উজ্জল হয়। Amazon, Google এ জয়েন করলে পত্রিকায় ছাপা হয় ফলাও করে । তাদের মাঝে যারা ফিরে আসে তারা দেশকে ভালবেসেই আসে। তানাহলে রাস্তায় ডাস্টবিন না থাকা কিংবা সামান্য বৃষ্টিতে পানি ঊঠে যাওয়া কিংবা অসহ্য ট্রাফিক জ্যাম আর সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত দেহ নিয়ে পাবলিক বাসে একটু দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা  খুজে না পাওয়া মেনে নেয়াটা বেশ কস্টকর।

যাই হোক CSE কিন্তু কেবল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য না। এর বিস্তৃতি সমুদ্রের মতন বিশাল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এই সমুদ্রের মাঝে একটা দ্বীপ বলা যায়…আর এর এই দ্বীপের হার্ট বা হৃদয় হচ্ছে কোর প্রোগ্রামিং, অ্যাল্গো, ডাটা স্ট্রাকচার, OOP ইত্যাদি বেসিকস। যার এগুলো নিয়ে ঘুটিঘাটী ভাল লাগে সে চাইলেই যেকোনো দিকে সুইচ করতে পারে মনের স্থিরতার জন্য।  হয় একাডেমিয়া কিংবা ইন্ডাস্ট্রি কিংবা যেকোনো প্লাটফরমে সুইচ করা।

তবে এমন একটা সময় আসবে আমাদের দেশেও হাইএন্ড রিসার্চ হবে। গ্রান্ট তৈরী হবে। একটা Uber টাইপ মোবাইল/ওয়েব অ্যাপ কে স্কেলেবল করতে কমপ্লেক্সিটি খুজে নেয়ার জন্য রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার এর প্রয়োজন হবে। রিসার্চার দের সামাজিক নিরাপত্তা তৈরী হবে। অসংখ্য ডাটা থেকে নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করার মতন প্রয়োজনীয় ইন্ডাস্ট্রি দেশেই তৈরী হবে। ছোট্ট করে মনের কোনে সপ্ন দেখলে দোষ কি তাতে ?!

এগুলো আমার নিজের পর্যবেক্ষ্ণ থেকে লিখা।কাউকে কস্ট দেয়ার জন্য নয়। শেয়ার করতে চাইলে উপযুক্ত ক্রেডিট দিয়ে শেয়ার করতে পারবেন. ধন্যবাদ সময় ও ধৈর্য নিয়ে  লিখাটি পড়ার জন্য 🙂

#মনকথা #মনজিজ্ঞাসা #ভাবনা # পর্যবেক্ষণ #CSE #দেশ #বিদেশ

[ আরেকদিন সময় নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সিএসই স্টুডেন্ট এর ক্যারিয়ার, ব্যর্থতা এবং সাফল্য  নিয়ে লিখব ততদিন পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন ]